দ্যা এক্সপোস

শিল্পকলা কি রাজনীতির প্রভাবের মাঠ?

শিল্পকলা কি রাজনীতির প্রভাবের মাঠ?

একটি শিল্পকলা একাডেমি শুধু একটি সরকারি ভবন নয়; এটি একটি জেলার সাংস্কৃতিক চর্চার প্রাণকেন্দ্র। এখানে শিল্পী, সাহিত্যিক, সংগীতশিল্পী, নাট্যকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীরা মুক্ত পরিবেশে কাজ করবেন এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। কিন্তু যখন সেই পরিবেশকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ ওঠে, তখন উদ্বিগ্ন হওয়াই স্বাভাবিক।

সম্প্রতি বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিকে ঘিরে যে অভিযোগগুলো সামনে এসেছে, সেগুলো শুধু একজন ব্যক্তিকে ঘিরে নয়; বরং একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগ উঠেছে অযাচিত হস্তক্ষেপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং ভিন্নমত দমনের। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তবে একই সঙ্গে এটিও মনে রাখা জরুরি—অভিযোগ মানেই অপরাধ প্রমাণিত নয়। তাই কোনো অভিযোগকে ধামাচাপা দেওয়া যেমন উচিত নয়, তেমনি তদন্ত ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করাও সমীচীন নয়। একটি নিরপেক্ষ তদন্তই পারে সত্যকে সামনে আনতে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ভেতরে যদি শিল্পীরা নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারেন, তাহলে নতুন প্রজন্মের কাছে কী বার্তা যাবে? শিল্পকলার মঞ্চ কি সৃজনশীলতার জায়গা থাকবে, নাকি ক্ষমতার প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র হয়ে উঠবে?

বরিশালের সংস্কৃতি অঙ্গনের রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যকে রক্ষা করা শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ যেন একটি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে, সেদিকে নজর রাখতে হবে।

আজ প্রয়োজন পক্ষ-বিপক্ষের বিতর্ক নয়; প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহি এবং শিল্পকলায় একটি ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। কারণ শিল্পের জায়গায় যদি ভয় বাসা বাঁধে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয় ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো সমাজের সাংস্কৃতিক বিকাশ।

সত্য উদঘাটিত হোক, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, আর শিল্পকলা ফিরে পাক তার প্রকৃত পরিচয়; শিল্প ও সংস্কৃতির মুক্ত অঙ্গন হিসেবে।